আন্দোলনের নামে অরাজকতা রোধে আগাম ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে জ্বালানি তেল ও দাহ্য পদার্থের (পেট্রল বোমার সরঞ্জাম) অপব্যবহ...
আন্দোলনের নামে অরাজকতা রোধে আগাম ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে জ্বালানি তেল ও দাহ্য পদার্থের (পেট্রল বোমার সরঞ্জাম) অপব্যবহার রোধে নানা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ যাতে এসব জিনিস বিক্রি করতে না পারে এ জন্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জ্বালানি তেল ও দাহ্য পদার্থের অবৈধ ব্যবহার, বিক্রি নিয়ন্ত্রণে একটি দিকনির্দেশনামূলক পরিপত্র জারি করবে। যাতে এসব জিনিস বিক্রিতে নানা শর্তের কথা বলা থাকবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগামী এক মাসের মধ্যে দাহ্য পদার্থের অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য কি করার আছে তা ঠিক করবে। পাশাপাশি এ সময়ে সরজমিন বাস্তব অবস্থা নিরীক্ষণ করে করণীয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে তারা। একই সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে জ্বালানি তেল ও দাহ্য পদার্থের অবৈধ ব্যবহার ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আলোকে দিকনির্দেশনামূলক একটি পরিপত্র জারি করতে অনুরোধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সাল জুড়েই রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে দুর্বৃত্তরা সারা দেশে অজস্র পেট্রল বোমা ব্যবহার করে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, হরতাল-অবরোধের সময় মানুষের কাছে প্রধান আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় পেট্রল বোমা। পেট্রল বোমা বানানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং উপকরণ পাওয়া সুলভ হওয়ায় সারা দেশে পেট্রল বোমার ব্যবহার বেড়েছিল বলে মতামত দেন বিশ্লেষকরা। ওই সময় পেট্রল বোমার বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও ছিল অনেক বেশি। এ সময় পেট্রল বোমা ছুড়ে যানবাহন পুড়িয়ে মানুষ মারার ঘটনাও ঘটে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হরতাল-অবরোধে শুধুমাত্র পেট্রল বোমার বিস্ফোরণজনিত আগুনে পুড়ে মারা যান অন্তত ৮২ জন। আহত হন ৯শ’র বেশি মানুষ। পেট্রল বোমায় ভস্মীভূত হয় ৫ শতাধিক যানবাহন।
এমন প্রেক্ষাপটে আবার যাতে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে পেট্রল বোমার মতো মারণাস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে যেতে না পারে সরকার সে জন্য দেশব্যাপী জ্বালানি তেল ও পেট্রলের মতো দাহ্য দ্রব্যের অপব্যবহার রোধে করণীয় ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দাহ্য পদার্থ ও জ্বালানি তেলের অপব্যবহার রোধে করণীয় ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় কামাল উদ্দিন বলেন, বিনা লাইসেন্সে পেট্রোলিয়াম ও দাহ্য পদার্থ বিক্রি করার কারণে বিভিন্ন সময় বিশেষত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় এর অপব্যবহার হয়ে থাকে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্যাদির সহজলভ্যতার কারণেই দুষ্কৃতকারীরা এর অপব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকে। তিনি বলেন, কৃষকদের সেচ কাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনে কেরোসিন বা ডিজেল গ্রামের বাজারগুলোতে বিক্রি করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। ওই সভায় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি লিমিটেডের মহাসচিব সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম জানান, পাকিস্তান আমলে সারা দেশে মাত্র ৩৭২টি পেট্রল পাম্প থাকলেও এখন এ সংখ্যা ২ হাজার ৫শ’র বেশি। বাংলাদেশের প্রায় সকল এলাকা এখন পেট্রল পাম্পের আওতাভুক্ত। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে প্যাক পয়েন্ট ডিলার। এখন সময় এসেছে প্যাক পয়েন্ট ডিলার প্রথা যাচাই-বাছাইয়ের। একই সঙ্গে সবার আগে প্যাক পয়েন্ট ডিলারদের কাছে ব্যারেলে পেট্রোলিয়াম দ্রব্য বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক সভায় জানান, পেট্রল পাম্প ডিলার ও প্যাক পয়েন্ট ব্যবসায়ীরা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল কিনে থাকেন। আবার প্যাক পয়েন্ট ব্যবসায়ী ও এজেন্টরা পেট্রল পাম্প ডিলারদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে থাকে। এজেন্টরা শুধু ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে তারা পেট্রোলিয়াম বিক্রি করে না। অপরদিকে, প্যাক পয়েন্ট ব্যবসায়ীরা কেরোসিন, ডিজেল ও পেট্রোলিয়াম- তিনটিই বিক্রি করে। সুতরাং সমস্যার মূলে প্যাক পয়েন্ট ডিলার ও বিনা লাইসেন্সে বোতলে সাজিয়ে পেট্রোলিয়াম বিক্রিকারীদের নিয়ে। এমন অবস্থায় বিনা লাইসেন্সে পেট্রল বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।
সভায় পুলিশ দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি অবৈধ পেট্রোলিয়াম বিক্রিকারীদের তালিকা পুলিশ সদর দপ্তরে দিলে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি দাহ্য পদার্থ আমদানি ও বিক্রিকারীদের তালিকা ডাটাবেজে সংরক্ষণ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে জানান, এটি করা গেলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে মনিটরিং করা সহজ হবে। সভায় আলোচনার পর নানা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আবার যাতে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে পেট্রল বোমার মতো মারণাস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে যেতে না পারে সরকার সে জন্য দেশব্যাপী জ্বালানি তেল ও পেট্রলের মতো দাহ্য দ্রব্যের অপব্যবহার রোধে করণীয় ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দাহ্য পদার্থ ও জ্বালানি তেলের অপব্যবহার রোধে করণীয় ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় কামাল উদ্দিন বলেন, বিনা লাইসেন্সে পেট্রোলিয়াম ও দাহ্য পদার্থ বিক্রি করার কারণে বিভিন্ন সময় বিশেষত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় এর অপব্যবহার হয়ে থাকে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্যাদির সহজলভ্যতার কারণেই দুষ্কৃতকারীরা এর অপব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকে। তিনি বলেন, কৃষকদের সেচ কাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনে কেরোসিন বা ডিজেল গ্রামের বাজারগুলোতে বিক্রি করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। ওই সভায় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি লিমিটেডের মহাসচিব সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম জানান, পাকিস্তান আমলে সারা দেশে মাত্র ৩৭২টি পেট্রল পাম্প থাকলেও এখন এ সংখ্যা ২ হাজার ৫শ’র বেশি। বাংলাদেশের প্রায় সকল এলাকা এখন পেট্রল পাম্পের আওতাভুক্ত। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে প্যাক পয়েন্ট ডিলার। এখন সময় এসেছে প্যাক পয়েন্ট ডিলার প্রথা যাচাই-বাছাইয়ের। একই সঙ্গে সবার আগে প্যাক পয়েন্ট ডিলারদের কাছে ব্যারেলে পেট্রোলিয়াম দ্রব্য বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক সভায় জানান, পেট্রল পাম্প ডিলার ও প্যাক পয়েন্ট ব্যবসায়ীরা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল কিনে থাকেন। আবার প্যাক পয়েন্ট ব্যবসায়ী ও এজেন্টরা পেট্রল পাম্প ডিলারদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে থাকে। এজেন্টরা শুধু ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে তারা পেট্রোলিয়াম বিক্রি করে না। অপরদিকে, প্যাক পয়েন্ট ব্যবসায়ীরা কেরোসিন, ডিজেল ও পেট্রোলিয়াম- তিনটিই বিক্রি করে। সুতরাং সমস্যার মূলে প্যাক পয়েন্ট ডিলার ও বিনা লাইসেন্সে বোতলে সাজিয়ে পেট্রোলিয়াম বিক্রিকারীদের নিয়ে। এমন অবস্থায় বিনা লাইসেন্সে পেট্রল বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।
সভায় পুলিশ দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি অবৈধ পেট্রোলিয়াম বিক্রিকারীদের তালিকা পুলিশ সদর দপ্তরে দিলে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি দাহ্য পদার্থ আমদানি ও বিক্রিকারীদের তালিকা ডাটাবেজে সংরক্ষণ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে জানান, এটি করা গেলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে মনিটরিং করা সহজ হবে। সভায় আলোচনার পর নানা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
COMMENTS