অপহরণকারীদের কাছ থেকে জীবন নিয়ে ফিরে এলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব। ব্যবসা ও রাজনীতি করার প...
অপহরণকারীদের কাছ থেকে জীবন নিয়ে ফিরে এলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব। ব্যবসা ও রাজনীতি করার পরিকল্পনা নিয়ে দেশে এসেছিলেন তিনি। বিনিয়োগও
করেছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। কিন্তু অপহরণের ঘটনায় শঙ্কিত মুজিব এখন দেশে থাকা নিরাপদ মনে করছেন না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পেলে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, মুক্ত হওয়ার চার দিন অতিবাহিত হলেও মুজিব ও তার গাড়িচালক রেজাউল হক সোহেলকে আদালতে হাজির করা হয়নি। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের হাজীপাড়ায় রয়েছেন মুজিবুর রহমান মুজিব। অন্যদিকে চালক সোহেলকে পুলিশ হেফাজতে থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে রাখা হয়। তার সঙ্গে কাউকে দেখা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ঘটনার শুরু থেকেই চালক সোহেলের ভূমিকা নিয়ে নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। ১৯শে আগস্ট মুজিব ও গাড়িচালক সোহেল একসঙ্গে মুক্ত হন। মুক্ত হওয়ার পরও রহস্যময়ভাবে সোহেল থাকেন আত্মগোপনে।
২১শে আগস্ট নাটকীয়ভাবে সোহেলকে আটক করে পুলিশ। ওই দিনই জবানবন্দি গ্রহণ করতে মুজিব ও সোহেলকে আদালতের উদ্দেশে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে অপহরণের বিষয়ে কথা বলেছেন মুজিব। কিন্তু আত্মগোপনে থাকায় সোহেলের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে আটক করার পরও একই অবস্থা চলছে
। সুনামগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীরা মুজিবের সঙ্গে কথা বলতে পারলেও সোহেলের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। সোহেলের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কথা বলতে না দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেমায়েতুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না দিলেও সোহেলকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
অপহরণ ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে তিনি জানান, আপাতত এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিব ও তার গাড়িচালক সোহেলের পৃথকভাবে দেয়া বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দুজনের বক্তব্যে মিল রয়েছে আবার কিছু ক্ষেত্রে অমিল রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে মুজিবুর রহমান মুজিব জানান, পুলিশকে তেমন কিছু বলিনি। যা বলার আদালতে বলবো। গতকাল দুপুরে তিনি জানান, বেলা ৩টার পর তাকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। তার আগে বেলা ২টায় তাদের আদালতে নেয়ার কথা ছিলো। শেষ পর্যন্ত তাদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশের দাবি, অপহরণ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্যই তাদেরকে আপাতত আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। মুজিবুর রহমান মুজিব অপহরণ হওয়ার পর হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।
একইভাবে বৃটিশ নাগরিক মুজিবকে উদ্ধারের জন্য বৃটেনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বৃটেন ও নিজ দল বিএনপির ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মুজিব জানান, বৃটিশ দূতাবাস থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ নেয়া হচ্ছে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর বৃটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট গিবসন তার প্রতিনিধি প্রেরণ করে মুজিবের খোঁজ নিয়েছেন। বৃটিশ দূতাবাস প্রয়োজনে তাকে আইনি সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। মুজিব অপহরণ হওয়ার পর গত ১৬ই মে তদন্তে সহযোগিতার জন্য সুনামগঞ্জে যান বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা মি. নিক ও মি. গ্রাহাম। তারা সিলেট ও সুনামগঞ্জের পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা তিন দিন সেখানে অবস্থান করেন।
বিএনপি নেতা লন্ডন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মুজিবুর রহমান মুজিব জানান, অপহরণকারীদের কবল থেকে মুক্ত হলেও এখন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। জীবন নিয়ে তিনি শঙ্কিত। ব্যবসা ও রাজনীতি করার পরিকল্পনা নিয়েই গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি দেশে এসেছিলেন। রাজধানীর উত্তরা ও গুলশানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। বিনিয়োগ করেছেন কয়েকটি ব্যবসায়। কিন্তু অপহৃত হওয়ার পর তার সকল পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। তিনি বলেন, দেশের মাটিতে থাকার জন্য, দেশে বিনিয়োগ করার জন্য লন্ডন থেকে এসেছিলাম। কিন্তু এ অবস্থায় দেশে থাকা যাবে না।
উল্লেখ্য, গত ৪ঠা মে দেশব্যাপী গুম-হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে দলীয় কর্মসূচি শেষে সিলেটে ফেরার পথে নিজের গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হয়েছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এ বিএনপি নেতা। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের খেওয়ালীপাগা গ্রামের মৃত আসদ আলীর ছেলে। তিনি যুক্তরাজ্য যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য।
করেছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। কিন্তু অপহরণের ঘটনায় শঙ্কিত মুজিব এখন দেশে থাকা নিরাপদ মনে করছেন না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পেলে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, মুক্ত হওয়ার চার দিন অতিবাহিত হলেও মুজিব ও তার গাড়িচালক রেজাউল হক সোহেলকে আদালতে হাজির করা হয়নি। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের হাজীপাড়ায় রয়েছেন মুজিবুর রহমান মুজিব। অন্যদিকে চালক সোহেলকে পুলিশ হেফাজতে থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে রাখা হয়। তার সঙ্গে কাউকে দেখা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ঘটনার শুরু থেকেই চালক সোহেলের ভূমিকা নিয়ে নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। ১৯শে আগস্ট মুজিব ও গাড়িচালক সোহেল একসঙ্গে মুক্ত হন। মুক্ত হওয়ার পরও রহস্যময়ভাবে সোহেল থাকেন আত্মগোপনে।
২১শে আগস্ট নাটকীয়ভাবে সোহেলকে আটক করে পুলিশ। ওই দিনই জবানবন্দি গ্রহণ করতে মুজিব ও সোহেলকে আদালতের উদ্দেশে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে অপহরণের বিষয়ে কথা বলেছেন মুজিব। কিন্তু আত্মগোপনে থাকায় সোহেলের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে আটক করার পরও একই অবস্থা চলছে
। সুনামগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীরা মুজিবের সঙ্গে কথা বলতে পারলেও সোহেলের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। সোহেলের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কথা বলতে না দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেমায়েতুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না দিলেও সোহেলকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
অপহরণ ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে তিনি জানান, আপাতত এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিব ও তার গাড়িচালক সোহেলের পৃথকভাবে দেয়া বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দুজনের বক্তব্যে মিল রয়েছে আবার কিছু ক্ষেত্রে অমিল রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে মুজিবুর রহমান মুজিব জানান, পুলিশকে তেমন কিছু বলিনি। যা বলার আদালতে বলবো। গতকাল দুপুরে তিনি জানান, বেলা ৩টার পর তাকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। তার আগে বেলা ২টায় তাদের আদালতে নেয়ার কথা ছিলো। শেষ পর্যন্ত তাদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশের দাবি, অপহরণ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্যই তাদেরকে আপাতত আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। মুজিবুর রহমান মুজিব অপহরণ হওয়ার পর হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।
একইভাবে বৃটিশ নাগরিক মুজিবকে উদ্ধারের জন্য বৃটেনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বৃটেন ও নিজ দল বিএনপির ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মুজিব জানান, বৃটিশ দূতাবাস থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ নেয়া হচ্ছে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর বৃটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট গিবসন তার প্রতিনিধি প্রেরণ করে মুজিবের খোঁজ নিয়েছেন। বৃটিশ দূতাবাস প্রয়োজনে তাকে আইনি সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। মুজিব অপহরণ হওয়ার পর গত ১৬ই মে তদন্তে সহযোগিতার জন্য সুনামগঞ্জে যান বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা মি. নিক ও মি. গ্রাহাম। তারা সিলেট ও সুনামগঞ্জের পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা তিন দিন সেখানে অবস্থান করেন।
বিএনপি নেতা লন্ডন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মুজিবুর রহমান মুজিব জানান, অপহরণকারীদের কবল থেকে মুক্ত হলেও এখন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। জীবন নিয়ে তিনি শঙ্কিত। ব্যবসা ও রাজনীতি করার পরিকল্পনা নিয়েই গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি দেশে এসেছিলেন। রাজধানীর উত্তরা ও গুলশানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। বিনিয়োগ করেছেন কয়েকটি ব্যবসায়। কিন্তু অপহৃত হওয়ার পর তার সকল পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। তিনি বলেন, দেশের মাটিতে থাকার জন্য, দেশে বিনিয়োগ করার জন্য লন্ডন থেকে এসেছিলাম। কিন্তু এ অবস্থায় দেশে থাকা যাবে না।
উল্লেখ্য, গত ৪ঠা মে দেশব্যাপী গুম-হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে দলীয় কর্মসূচি শেষে সিলেটে ফেরার পথে নিজের গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হয়েছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এ বিএনপি নেতা। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের খেওয়ালীপাগা গ্রামের মৃত আসদ আলীর ছেলে। তিনি যুক্তরাজ্য যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য।
COMMENTS